ভিটামিন ডিঃ The Sunshine Vitamin

সর্বশেষ সম্পাদনা: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সকাল ১০:৫০

SARS-CoV-2 নামে একটা ভাইরাস দিয়ে হওয়া রোগ covid-19 যখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লো তখন কেউ এর বিষয়ে কিছুই জানত না। আগে একই ধরণের ভাইরাসের দ্বারা হওয়া রোগের ধরণ থেকে কিছু বিষয়ে ধারনা করা হয়েছিল। শুরুতে শুধু সেই ধারণা প্রসূত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার মাধ্যমে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে এই রোগ (covid-19) সম্পর্কে জানছি। (কোভিড-১৯ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের এখানে ক্লিক করুন)

চিকিৎসকদের এরকমই একটা ধারণা ছিল যে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব আছে তাদের ক্ষেত্রে কোভিড এর তীব্রতা বেশি হবে। কারণ, অন্যান্য গবেষনা থেকে আমরা আগেই জানতাম যে এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য জরুরী একটা জিনিস। এই ধারণার ফলে, বিগত ২ বছরে বাংলাদেশের ডাক্তাররা প্রচুর মানুষকে এই ভিটামিন খেতে বলেছেন (আমি নিজেও খেয়েছি, পরিবারের সদস্যদের খাইয়েছি এবং অন্যদেরও খেতে পরামর্শ দিয়েছি)। এখন আমাদের এই ধারণা সঠিক প্রমানিত হচ্ছে। আসলেই ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে কোভিড-এর তীব্রতা বেশি হয় (https://journals.plos.org/plosone/article?id=10.1371/journal.pone.0263069 )। অন্যদিকে, দেশে হওয়া গবেষনায় প্রমানিত যে বাংলাদেশের মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি এমনিতেই কম থাকে ( https://www.scirp.org/journal/paperinformation.aspx?paperid=80730 )। কাজেই, যারা খেয়েছেন তাদের উপকারই হয়েছে। যারা খাননি তারা চিকিতসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন।

কিভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?

ভিটামিন ডি এর উৎস

সচেতন লোকজন জানেন এই ভিটামিন সুর্যের আলোর প্রতিক্রিয়ায় আমাদের চামড়ায় তৈরি হয়। এজন্যেই এর নাম sunshine vitamin। পরবর্তীতে আমাদের লিভার (কলিজা) ও কিডনিতে এটি পরিবর্তিত হয়ে সম্পুর্ণরুপে সক্রিয় হয়। কাজেই, যারা একেবারেই ঘরের বাইরে যান না বা বোরকা পড়ে/ সানস্ক্রিন লাগিয়ে বাইরে যান তারা এই ভিটামিনের অভাবে ভোগার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কতটুকু সুর্যের আলো দরকার হবে?

একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে, দুপুরের রোদে, ৩০মিনিটের চেয়ে বেশি, সপ্তাহে কয়েকবার, সরাসরি গায়ে রোদ পড়লে প্রয়োজন মিটে যায়। উল্লেখ্য, শীতের রোদ থেকে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে, কাচের ভিতর দিয়ে আসলে, আকাশ মেঘলা থাকলে, গায়ের রঙ কালো হলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। কাজেই, বোঝা যাচ্ছে রোদ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তৈরি হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত পুরন করতে হয়। এ কারণেই হয়তো আমাদের দেশে এত রোদ পাওয়ার পরও এই ভিটামিনের অভাব দেখা যায়।

০৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের সরাসরি রোদে দেয়া নিষেধ। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন আসবে মায়ের বুকের দুধ থেকে।

কতটুকু ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়?

সাধারনভাবে ১ বছর বয়স পর্যন্ত ৪০০ ইউনিট, ১-৭০ বছর পর্যন্ত ৬০০ ইউনিট, ৭০ বছরের পর ৭০০ ইউনিট ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের অতিরিক্ত ৪০০ ইউনিট, দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০০ ইউনিট ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, গর্ভবতী মায়েদের যেকোন ঔষধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরী। সাধারণত, গর্ভবস্থা ও তার পুর্বের চেকআপএর সময়ই প্রসুতিবিশেষজ্ঞরা ভিটামিন কখন, কিভাবে খেতে হবে তা জানিয়ে দেন।

ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি

আগেই যেমন উল্লেখ করেছি সুর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি বেশিরভাগ লোকই পায় না। এ কারণে আমরা এই ভিটামিনের জন্য খাবারের উপর নির্ভরশীল। দুধ, দুধজাতীয় খাবার, ঘি, ডিমের কুসুম, মাছের তেল, গোস্ত, কলিজা ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ডি যোগ করা বাধ্যতামুলক। ফলে, তারা সহজেই খাবারের মাধ্যমেই পেয়ে যায়। আমাদের দেশে এখনো এটাকে আইন করে বাধ্যতামুলক করা হয় নি (ভিটামিন এ যোগ করা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে ২০১৩ সালে)। ফলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মাঝে মাঝে এই ভিটামিন খাওয়া উচিত।

এই ভিটামিনএর অভাব হলে কি হয়?

প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকার জন্য জরুরী হলেও এর আসল কাজ কিন্তু হাড় ও দাঁত শক্ত করা। কাজেই, কারো যদি এই ভিটামিন বেশি কম থাকে তখন হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে। বাচ্চাদের রিকেটস, বড়দের অস্টিওপরোসিস নামে রোগ দেখা দেয়। এছাড়াও হাড়ের দুর্বলতার কারণে ব্যথা, অল্প আঘাতেই হাড় ভেংগে যাওয়ার মত আরো অনেক সমস্যা দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ত্রুটির জন্য বার বার ইনফেকশন হওয়া, এজমার সমস্যা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদিও দেখা দেয়।

ভিটামিন ডি বেশি খেয়ে ফেললে কি কোন সমস্যা আছে?

আছে।

এই ভিটামিন শরীরের জন্য জরুরী সন্দেহ নাই। তবে, অতিরিক্ত ব্যবহারে এটাও সমস্যা করতে পারে। এ কারণেই বার বার চিকিৎসকের পরামর্শের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার কি করনীয়?

আপনার ও আপনার পরিবারের সদস্যদের খাবারে যেন পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ডি থাকে সেটা নিশ্চিত করবেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিয়মিত বাইরে যাবেন। লম্বা ট্যুর দিতে না পারলেও আসেপাশের কোথাও ঘুরতে যাওয়া যেতে পারে। বাচ্চাদের মধ্যে ঘরে বসে মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেয়ে ঘরের বাইরে নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা করার অভ্যাস তৈরি করার চেষ্টা করবেন। মাঝে মাঝে ঘরের সব সদস্য কোন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে খেয়ে নিতে পারেন। তবে, অন্যান্যভাবে প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে বাইরে থেকে ভিটামিন খাওয়ার দরকার নাই।

Leave a Comment