মায়ের বুকের দুধ কম হওয়ার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়

সর্বশেষ সম্পাদনা: ১০ ডিসেম্বর ২০২১, দুপুর ০২:৫২

প্রবন্ধে আলোচিত বিষয়গুলো( নির্দিষ্ট একটি বিষয় পড়তে ক্লিক করুন)-

মায়ের বুকের দুধ যে নবজাতকের জন্য সবচেয়ে সেরা খাবার সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। এবং প্রত্যেক মায়ের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা থাকে বাচ্চা যে ভালো থাকে, ভালো ভাবে খায় এটাই। বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই সাধারণ এবং সহজ একটি বিষয়। তবুও কোন কোন সময় এই সাধারণ কাজটিও সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। বিশেষ করে যারা প্রথমবার মা হয়েছেন এবং সহযোগিতা করার মত পরিবেশ পান নাই তাড়া বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। ফলে, বুকের দুধের পরিমাণ (প্রবাহ) কমে যায়। বাচ্চা পরিমানমত দুধ পায় না। কেন মায়ের বুকের দুধের প্রবাহ কমে যায় এবং কিভাবে প্রবাহ ধরে রাখা যায় বা বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়েই আলোচনা করবো।

বুকের দুধ কি আসলেই কম? বাচ্চা কি আসলেই দুধ কম পাচ্ছে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নবজাতকের কান্নাকে শুধুমাত্র ক্ষুধার জন্য কান্না বলে ধরে নেয়া হয়। এটা কিন্তু সত্য না। নবজাতকের যেকোন অস্বস্তি, কষ্ট হলেই সে কান্না করে। পেটে ব্যথা, ভেজা কাপড়, ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি যেকোন ক্ষেত্রেই কিন্তু নবজাতক কান্না করে। নবজাতকের চামড়া খুবই স্পর্শকাতর হওয়া কাপড়ের ঘষা লাগার কারণেও কান্না করতে পারে। এমনকি শুধুমাত্র কোলে উঠার জন্যও বাচ্চা কান্না করে। কাজেই, বাচ্চা কান্না করলে শুধু খাওয়ার বিষয় না অন্যদিকগুলো নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

তবে, কিছু ক্ষেত্রে আসলেই বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ নাও পেতে পারে। সেগুলোকে চিনতে হবে। এবং কোন সমস্যা থাকলে সমাধান করতে হবে। নিচের লক্ষণগুলো আছে কিনা দেখুন-

১। বাচ্চা সারাদিন কমপক্ষে ৬-৮ বার প্রস্রাব করে কিনা। যদি না করে তাহলে বাচ্চা হয়ত পরিমান মত দুধ পাচ্ছে না। তবে, খেয়াল রাখতে হবে যে জন্মের পর প্রথম দুইদিন নবজাতক প্রস্রাব নাও করতে পারে। এটা স্বাভাবিক।

২। বাচ্চার ওজন বাড়ছে কিনা।  জন্মের পর প্রথম ৭ দিন বাচ্চার ওজন কমতে থাকে। তবে, এর পর থেকে ক্রমাগত ওজন বাড়ার কথা। যদি না বাড়ে তাহলে হয়তো পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না।

৩। বাচ্চা বেশি কান্না করে। ঠিকঠাক দুধ খায় এবং শান্ত হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার কান্না শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে মায়েরা একবার খাওয়ানোর সময় দুইস্তন থেকে অল্প অল্প করে দুধ খাওয়ান। এর ফলে বাচ্চার পাওয়া দুধের পরিমাণ ঠিক থাকলেও দুই স্তন থেকেই সামনের দিকের অপেক্ষাকৃত পাতলা দুধ (foremilk) পায়। এবং পিছনের দিকের ঘন দুধ (hindmilk) পায় না। ফলে, কিছুক্ষণ পরেই আবার বাচ্চার ক্ষুধা লেগে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

এ লক্ষণগুলো থাকলে বাচ্চা দুধ পরিমাণমত পাচ্ছে না ধরে নেয়া যায়। প্রশ্ন আসে যে কেন বাচ্চা যথেষ্ট পরিমাণে বুকের দুধ পাচ্ছে না বা কেন মায়ের বুকে দুধ যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হচ্ছে না। এজন্য একটু ভিতরের কথা জানলে সুবিধা হবে।

(এখনই বিস্তারিত জানার মত সময় না থাকলে শুরুতে দেয়া তালিকা থেকে ক্লিক বা টাচ করে  কারণ ও সমাধান দেখে নিতে পারেন)।

মায়ের বুকে দুধ কিভাবে তৈরি এবং নিঃসরিত হয়?

শিশু যখন মায়ের স্তনের বোটায় দুধ খাওয়ার সময় চুষে তখন মায়ের ব্রেইন থেকে দুইটি হরমোন (রক্তে থাকা একধরণের কেমিক্যাল) নিঃসরিত হয়। এর মধ্যে একটা প্রোল্যাকটিন (prolactin) এবং অন্যটি অক্সিটোসিন (oxytocin) ।

প্রোল্যাকটিন মায়ের স্তনে দুধ তৈরি করতে সহায়তা করে। অর্থাৎ যত বেশি প্রোল্যাকটিন নিঃসরিত হবে তত বেশি বুকের দুধ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, অক্সিটোসিনের কাজ হলো দুধ স্তন থেকে বের করা। অর্থাৎ বাচ্চা যখন বুকে মুখ দেয় এবং চুষে তখন দুধ বের হবে। সোজা ভাষায় অক্সিটোসিন বেশি নিঃসরিত হলে স্তনে আগে থেকে তৈরি থাকা দুধ বেশি বেশি বের হয়ে আসবে।

Reflexes involving breastfeeding

প্রোল্যাকটিন (Prolactin)

  • প্রোল্যাকটিন অ্যালভিওলাই বা দুধ কোষের উপর কাজ করে দুধ তৈরি করে,
  • প্রোল্যাকটিনের জন্য মা আরাম বোধ করেন এবং তার ঘুম ভালো হয়,
  • প্রসবের পর প্রথম ২ ঘন্টা রক্তে প্রোল্যাকটিন সবচেয়ে বেশি থাকে ফলে এই সময় শিশু দুধ পান করলে দুধের তৈরি হওয়ার মাত্রা আরো বেড়ে যায়,
  • শিশু যখন মায়ের বুকের দুধ ঘন ঘন পান করে, প্রোল্যাকটিন নিঃসরণ বেড়ে যায় এবং বুকের দুধের পরিমান বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বুকের দুধ কম খাওয়ালে প্রোল্যাকটিন নিঃসরণ কমে যায় এবং দুধের পরিমাণও হ্রাস পায়।

অক্সিটোসিন (Oxytocin)

  • অক্সিটোসিন(oxytocin) দুধকোষ (alveoli)এর চারপাশে থাকা মাংসপেশি কোষ (myoepithelial cells)এর উপর কাজ করে। অক্সিটোসিন নিঃসরণের ফলে মাংসপেশি সংকুচিত হয় এবং দুধকোষ থেকে দুধ বের হয়ে আসে।
  • অক্সিটোসিন তৈরি হয়ে থাকা দুধ বের করে ফলে শিশু খেতে পারে। মা যখন শিশুকে খাওয়ানোর ইচ্ছা নিয়ে তার কাছে যায় তখন থেকেই অক্সিটোসিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। শিশু চোষার সময় তা আরো বেড়ে যায় (let down reflex or milk ejection reflex)।
  • ধীরে ধীরে মায়ের শারীরিক ও মানসিক অনুভুতির সাথেও জড়িত হয়ে যায়। এমন কি শিশুকে স্পর্শ করা, শিশুর কান্না শোনা, এমনকি শিশুর কথা কল্পনা করলেও অক্সিটোসিন নিঃসরণ হয় এবং দুধ বের হয়ে আসা শুরু হয়।

কি কি কারণে মায়ের বুকের দুধ কমে যায়?

  • দেরিতে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা।
  • বুকের দুধের আগেই শিশুকে অন্যকিছু খাওয়ানো। এতে বাচ্চার ক্ষুধা কমে যেতে পারে এবং বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে সমস্যা হতে পারে।
  • মায়ের মধ্যে সন্দেহ, দ্বিধাধন্দ থাকা। বিশেষ করে নতুন মায়েদের অনেক সময়ই মনে হয় যে সে বাচ্চাকে সঠিকভাবে দুধ খাওয়াতে পারবে না। ফলে, প্রোল্যাকটিন ও অক্সিটোসিন হরমোন সঠিকভাবে বা পরিমাণমত তৈরি নাও হতে পারে। এবং পর্যাপ্ত দুধ তৈরি ও নিঃসরণ নাও হতে পারে।
  • শারীরিক ব্যথা বেদনা বা মানসিক অস্থিরতা থাকলে মায়ের রক্তে অক্সিটোসিন নিঃসরণ কমে যায়। এ কারণে পর্যাপ্ত ব্যথানাশক সেবন করা ও মাকে মানসিক সমর্থণ দেয়া জরুরি।

কিভাবে মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করা যায়?

বুকের দুধ যথেষ্ট পরিমাণ তৈরি না হওয়া বা শিশুর যথেষ্ট দুধ না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ শিশুকে সঠিকভাবে কোলে না নেয়া এবং সঠিকভাবে শিশুর মুখ স্তনে না দেয়া (wrong position and attachment)। এজন্য এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

পজিশন ও এটাচমেন্ট সম্পর্কে জানতে পড়ুন শিশুকে মায়ের দুধ কিভাবে খাওয়াবেন?

  • যতদ্রুত সম্ভব নবজাতককে বুকের দুধ দেয়া শুরু করা। কমপক্ষে ১ ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে।
  • নবজাতক ও তার মাকে একই রুমে(rooming in) এবং সম্ভব হলে একই বিছানায় (bedding in) রাখতে হবে। এর ফলে মা নবজাতকের স্পর্শ পাবে, গন্ধ পাবে, শব্দ শুনতে পাবে এবং দুধ বেশি বেশি তৈরি হবে। এবং বেশি বেশি নিঃসরণও হবে।
  • রাতে প্রোল্যাকটিন নিঃসরণ বেশি হয়। এ কারণে শিশুকে রাতের বেলায় ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। দিনেরাতে যখনই বাচ্চাকে চাহিদা মোতাবেক খাওয়াতে হবে।
  • শিশুকে একপাশের স্তন থেকে একবারে সম্পুর্ণ খাওয়াতে হবে। ফলে, স্তন (অর্থাৎ দুধকোষ বা alveoli) খালি হবে। দুধকোষ খালি হলে প্রোল্যাকটিন নিঃসরণ বাড়ে এবং বেশি বেশি দুধ তৈরি হয়।
  • মায়ের পুষ্টি ঠিক থাকতে হবে। যদি মা অপুষ্টির শিকার হন তাহলে অনেক ক্ষেত্রে দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে। একারণে প্রয়োজন ক্ষেত্রে মাকে চিকিৎসা করাতে হবে। একই সাথে মাকে পুষ্টিকর খাবার (শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, মিনারেলইত্যাদি সমৃদ্ধ) খেতে হবে। সাধারণভাবে বলা যায় গড়পড়তা মানুষের ৩ বেলার বিপরীতে দুগ্ধদায়ী মাকে ৪-৫ বেলা খেতে হবে ( প্রতিদিন ৫০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খেতে হবে)।
  • দুধদানকারী মাকে ফলিক এসিড ও ক্যালসিয়াম খেতে হবে। প্রসবের ৪২ দিন পর ভিটামিন এ (২০০,০০০ ইউনিট) এবং ০৩ মাস পর থেকে আয়রণ ট্যাবলেট খেতে হবে।
  • দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কিছু খাবার (যেমন- লাউ, কালিজিরা ইত্যাদি) উপকার করতে পারে। একই সাথে কিছু ঔষধও সহায়তা করতে পারে।

এ বিষয়ে কোন সন্দেহ হলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। প্রয়োজন বোধে আমাদেরকে প্রশ্নও করতে পারেন। প্রশ্ন করতে নিচের ফর্মটি ব্যবহার করুন।

 






 

10 thoughts on “মায়ের বুকের দুধ কম হওয়ার কারণ ও বৃদ্ধির উপায়”

  1. আমার বাবু বয়স ৯ দিন এখন ও আমার বাবু মায়ের বুকের দুধ চুশে না এবং দুধ ও বেশী বের হয় না বাবু সব সময় ফিডার খাচ্ছে এখন আমি কি করবো।

    Reply
    • আসসালামু আলাইকুম। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

      একই সংগে ফিডার ও বুকের দুধ খেলে এই সমস্যাটা হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ার সময় পরিশ্রম হয় (ফলে দীর্ঘমেয়াদে চোয়াল, দাত শক্ত হয়ে তৈরি হয়) অন্যদিকে ফিডার খাওয়া সহজ। এ কারণে ফিডারটা বাবু বেশি পছন্দ করতে পারে। আপনার জন্য পরামর্শ হবে বাবুর মাকে বলবেন ঘন ঘন বুকের দুধ দিতে (বিশেষ করে রাতে, কারণ রাতে দুধ খাওয়ালে বেশি বেশি দুধ তৈরি হয়)। এবং ফিডার দেয়া ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে। এ জন্য প্রতিবার ফিডার দেয়ার আগে কিছুক্ষণ করে বুকে দিয়ে দুধ টানাতে বলবেন (এতে মায়ের শরীরে বেশি বেশি সিগনাল যাবে যে বাবুর দুধ দরকার ফলে দুধ বেশি আসবে)। এরপর প্রয়োজনে ফিডার দিবেন।

      চেষ্টা করবেন যতদ্রুত সম্ভব ফিডার বন্ধ করে বুকের দুধে নির্ভরশীল করে তুলতে এবং ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ দিতে। প্রয়োজনবোধে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন। আবারো ধন্যবাদ।

      Reply
  2. আমার বাচ্চার বয়স ৩ মাস ২২ দিন।বুকের দুধ খায়। কিন্তু মাঝে মাঝে বুকে দুধ থাকে না।এটা কেন?

    Reply
    • আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

      মায়ের বুকের দুধ কমে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমনঃ
      ১। মায়ের বুকের দুধ ছাড়াও শিশুকে অন্য কিছু খাওয়ানো। এর ফলে বুকের দুধ খাওয়ানোর পিছনে মোট সময় কমে যায়। যত কম সময় বাচ্চা দুধ খায় তত কম দুধ তৈরি হয় (কারণ, বাচ্চা দুধ খেলে প্রল্যাকটিন হরমোন তৈরি হয়। এই হরমোন দুধ তৈরি করে।)
      ২। রাতে দুধ কম খাওয়ানো। বাচ্চা রাতে দুধ খেলে প্রল্যাকটিন হরমোন বেশি বেশি তৈরি হয়। ফলে, দুধও বেশি তৈরি হয়।
      ৩। মানসিক ও শারীরিক চাপ। এগুলোর কারণে প্রল্যাকটিন এবং অক্সিটোসিন (অন্য হরমোন যেটা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে সাহায্য করে) কমে যায়। ফলে দুধ কমে যায়।
      কাজেই, প্রচুর পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর পানি খেতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষ করে স্বামীর, সহায়তা জরুরি।
      ৪। আরেকটি কারণ হলো বুকের দুধ খাওয়ানোর নিয়মকানুন ঠিক না হওয়া। আপনার ক্ষেত্রে এমনটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবুও চেক করতে পারেন। পড়ে দেখুন “শিশুকে বুকের দুধ কিভাবে খাওয়াবেন?

      Reply
  3. আমার মেয়ের বয়স ৫২ দিন,৫মিনিট দুধ খেয়ে গুমিয়ে পরে,রাখার সাথে সাথে উটে যায়,আবার দুধ খোঁজে, সারাদিন এমন করে,একটুও গুমাই না,এর সমাধান কি?ও কি দুধ কম পাচ্ছে তাই এমন করে?? ও প্রতিদিন ৮ বারের বেশি পস্রাব করে,

    Reply
    • আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

      এখানে ২টা সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রথমত, দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে কোলে নেয়া (position) এবং বুকে দেয়া (attachment) সঠিকভাবে হচ্ছে না। এ কারণে বাচ্চা পেট ভরে দুধ খেতে পারছে না। কিছুক্ষণ চেষ্টা করে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। একটু পর আবার ক্ষুধার জন্য ঘুম থেকে উঠে খেতে চায়। আপনি অনুগ্রহ করে শিশুকে মায়ের দুধ কিভাবে খাওয়াবেন? এই লেখাটি একটু পড়ুন। আশাকরি সমাধান হবে।
      দ্বিতীয়ত, অনেক সময় মায়েরা প্রতিবার বাচ্চাকে দুই পাশ থেকে দুধ খাওয়ান। এর ফলে বাচ্চা শুরুতে আসা পাতলা দুধ পায়। শেষের দিকের ঘন দুধটা কোন স্তন থেকেই পায় না। এই পাতলা দুধে পানি বেশি থাকে কিন্তু অন্য খাদ্য উপাদান কম থাকে। ফলে, ক্ষুধা পুরোপরি যায় না। তবে, পেট ভরে যায় (পানি দিয়ে)। কিছু সময় পরে আবার ক্ষুধা লেগে যায় এবং ঘুম থেকে উঠে যায়। কাজেই, প্রতিবার এক স্তন থেকে সম্পুর্ণটা খাওয়াবেন। পরের বার অন্য পাশ থেকে খাওয়াবেন। আশাকরি সমাধান হয়ে যাবে।

      এর পরও সমস্যা থেকে গেলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

      Reply
  4. আমার বাচ্চার বয়স ৪ মাস ১৩ দিন। সিজারে ডেলিভারি হয়েছে।
    এখন তার আম্মুর সিজারের ইনজেকশনের জায়গা ব্যথা করার কারণে, এন্টিবায়োটিক খাওয়ার পর বুকের দুধ খুব কম আসে।
    এখন তাকে কি ঔষধ খাওয়ানো যায়?

    Reply
    • ব্যথার কারণে দুধের ফ্লো একটু কমতে পারে। একই সাথে টেনশন, কষ্ট হলেও ফ্লো কমে যেতে পারে। আশাকরি এখন ব্যথা নাই। দুধের ফ্লো বাড়াতে বাচ্চার মাকে বলুন যেন রাতে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ায় (বাচ্চা রাতে দুধ খেলে বেশি বেশি দুধ তৈরি হয়)। সাথে কালোজিরা, লাউ ইত্যাদি বেশি বেশি খাবে। এতেও উন্নতি না হলে ডমপেরিডন গ্রুপের ঔষধ (মোটিগাট, ডিফ্লাক্স, ওমিডন ইত্যাদি) চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক খাওয়ানো যেতে পারে।

      সাথে অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও শাক-সবজিসহ পুষ্টিকর খাবারও মাকে দিতে হবে। আশাকরি কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই সময় বাচ্চাকে কোন ফর্মুলা দিবেন না। এতে মায়ের বুকের দুধের ফ্লো আরো কমে যেতে পারে।

      Reply
  5. ভাইয়া আমার বাচ্চার বয়স ৪৮ দিন,,, আমার স্ত্রী গত চারদিন ধরে ফেমিপিল খাওয়া শুরু করেছে, আর এখন মনে হচ্ছে বাচ্চাও দুধ কম পাচ্ছে, এখন আমার করনীয় কি,,,,এ অবস্থায় ফেমিপিল খাওয়া যাবে কিনা,,,,,,,?
    এ অবস্থায় জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি কি,,,,?
    আর দুধ বৃদ্ধির উপায় ও সমাধান৷

    Reply
    • বাচ্চাকে সঠিকভাবে বুকের দুধ পান করালে মায়ের মাসিক শুরু হয় না এবং কোন রকম পদ্ধতি নেয়ার প্রয়োজন হয় না। আসলেই আপনার স্ত্রীএর কোন পদ্ধতি নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা সেটা আগে ঠিক করতে হবে। প্রয়োজন হলে কোনটা ভালো হবে সেটাও চিন্তা করতে হবে। যদি মাসিক শুরু হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আপনি একজন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

      বুকের দুধ বাড়ানোর জন্য মাকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার ও পানি খেতে হবে। এবং বাচ্চাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে (প্রতি ২-৩ ঘন্টা পর পর, দিনে এবং রাতে)। এতে বুকের দুধ আবারো আগের অবস্থায় ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

      Reply

Leave a Comment