সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, সকাল ১০:৩৬

মায়ের বুকের দুধ কম হওয়ার কারণ এবং বুকের দুধ বৃদ্ধির উপায়

প্রবন্ধে আলোচিত বিষয়গুলো( নির্দিষ্ট একটি বিষয় পড়তে ক্লিক করুন)-

মায়ের বুকের দুধ যে নবজাতকের জন্য সবচেয়ে সেরা খাবার সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। এবং প্রত্যেক মায়ের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা থাকে বাচ্চা যে ভালো থাকে, ভালো ভাবে খায় এটাই। বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই সাধারণ এবং সহজ একটি বিষয়। তবুও কোন কোন সময় এই সাধারণ কাজটিও সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। বিশেষ করে যারা প্রথমবার মা হয়েছেন এবং সহযোগিতা করার মত পরিবেশ পান নাই তাড়া বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। ফলে, বুকের দুধের পরিমাণ (প্রবাহ) কমে যায়। বাচ্চা পরিমানমত দুধ পায় না। কেন মায়ের বুকের দুধের প্রবাহ কমে যায় এবং কিভাবে প্রবাহ ধরে রাখা যায় বা বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়েই আলোচনা করবো।

বুকের দুধ কি আসলেই কম? বাচ্চা কি আসলেই দুধ কম পাচ্ছে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নবজাতকের কান্নাকে শুধুমাত্র ক্ষুধার জন্য কান্না বলে ধরে নেয়া হয়। এটা কিন্তু সত্য না। নবজাতকের যেকোন অস্বস্তি, কষ্ট হলেই সে কান্না করে। পেটে ব্যথা, ভেজা কাপড়, ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি যেকোন ক্ষেত্রেই কিন্তু নবজাতক কান্না করে। নবজাতকের চামড়া খুবই স্পর্শকাতর হওয়া কাপড়ের ঘষা লাগার কারণেও কান্না করতে পারে। এমনকি শুধুমাত্র কোলে উঠার জন্যও বাচ্চা কান্না করে। কাজেই, বাচ্চা কান্না করলে শুধু খাওয়ার বিষয় না অন্যদিকগুলো নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

তবে, কিছু ক্ষেত্রে আসলেই বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ নাও পেতে পারে। সেগুলোকে চিনতে হবে। এবং কোন সমস্যা থাকলে সমাধান করতে হবে। নিচের লক্ষণগুলো আছে কিনা দেখুন-

১। বাচ্চা সারাদিন কমপক্ষে ৬-৮ বার প্রস্রাব করে কিনা। যদি না করে তাহলে বাচ্চা হয়ত পরিমান মত দুধ পাচ্ছে না। তবে, খেয়াল রাখতে হবে যে জন্মের পর প্রথম দুইদিন নবজাতক প্রস্রাব নাও করতে পারে। এটা স্বাভাবিক।

২। বাচ্চার ওজন বাড়ছে কিনা।  জন্মের পর প্রথম ৭ দিন বাচ্চার ওজন কমতে থাকে। তবে, এর পর থেকে ক্রমাগত ওজন বাড়ার কথা। যদি না বাড়ে তাহলে হয়তো পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না।

৩। বাচ্চা বেশি কান্না করে। ঠিকঠাক দুধ খায় এবং শান্ত হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার কান্না শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে মায়েরা একবার খাওয়ানোর সময় দুইস্তন থেকে অল্প অল্প করে দুধ খাওয়ান। এর ফলে বাচ্চার পাওয়া দুধের পরিমাণ ঠিক থাকলেও দুই স্তন থেকেই সামনের দিকের অপেক্ষাকৃত পাতলা দুধ (foremilk) পায়। এবং পিছনের দিকের ঘন দুধ (hindmilk) পায় না। ফলে, কিছুক্ষণ পরেই আবার বাচ্চার ক্ষুধা লেগে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে।

এ লক্ষণগুলো থাকলে বাচ্চা দুধ পরিমাণমত পাচ্ছে না ধরে নেয়া যায়। প্রশ্ন আসে যে কেন বাচ্চা যথেষ্ট পরিমাণে বুকের দুধ পাচ্ছে না বা কেন মায়ের বুকে দুধ যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হচ্ছে না। এজন্য একটু ভিতরের কথা জানলে সুবিধা হবে।

(এখনই বিস্তারিত জানার মত সময় না থাকলে শুরুতে দেয়া তালিকা থেকে ক্লিক বা টাচ করে  কারণ ও সমাধান দেখে নিতে পারেন)। 

মায়ের বুকে দুধ তৈরি হওয়া এবং নিঃসরিত হওয়া

শিশু যখন মায়ের স্তনের বোটায় দুধ খাওয়ার সময় চুষে তখন মায়ের ব্রেইন থেকে দুইটি হরমোন (রক্তে থাকা একধরণের কেমিক্যাল) নিঃসরিত হয়। এর মধ্যে একটা প্রোল্যাকটিন (prolactin) এবং অন্যটি অক্সিটোসিন (oxytocin) । 

প্রোল্যাকটিন মায়ের স্তনে দুধ তৈরি করতে সহায়তা করে। অর্থাৎ যত বেশি প্রোল্যাকটিন নিঃসরিত হবে তত বেশি বুকের দুধ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, অক্সিটোসিনের কাজ হলো দুধ স্তন থেকে বের করা। অর্থাৎ বাচ্চা যখন বুকে মুখ দেয় এবং চুষে তখন দুধ বের হবে। সোজা ভাষায় অক্সিটোসিন বেশি নিঃসরিত হলে স্তনে আগে থেকে তৈরি থাকা দুধ বেশি বেশি বের হয়ে আসবে।

Reflexes involving breastfeeding

প্রোল্যাকটিন (Prolactin)

অক্সিটোসিন (Oxytocin)

কি কি কারণে মায়ের বুকের দুধ কমে যায়?

কিভাবে মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করা যায়?

বুকের দুধ যথেষ্ট পরিমাণ তৈরি না হওয়া বা শিশুর যথেষ্ট দুধ না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ শিশুকে সঠিকভাবে কোলে না নেয়া এবং সঠিকভাবে শিশুর মুখ স্তনে না দেয়া (wrong position and attachment)। এজন্য এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

পজিশন ও এটাচমেন্ট সম্পর্কে জানতে পড়ুন শিশুকে মায়ের দুধ কিভাবে খাওয়াবেন?

এ বিষয়ে কোন সন্দেহ হলে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। প্রয়োজন বোধে আমাদেরকে প্রশ্নও করতে পারেন। প্রশ্ন করতে নিচের ফর্মটি ব্যবহার করুন।

    Leave a Comment