ডায়বেটিস একটি মহামারীঃ সচেতন হওয়ার সময় এখনই

সর্বশেষ সম্পাদনা: 23 September 2020 at 06:35 am

ডায়বেটিস কি মহামারী?

মহামারী শব্দটা ব্যবহার করা হতো সংক্রামক ব্যধির ক্ষেত্রে। যখন হঠাৎ করে কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি সংখ্যায় কোন সংক্রামক ব্যধি ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে মহামারী ( epidemic ) বলে। কলেরা মহামারীর কথা আমাদের দেশের সাহিত্যএ  ছড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হচ্ছে ডায়বেটিসএর ক্ষেত্রে কি মহামারী শব্দটা ব্যবহার করা যায়? উত্তর হচ্ছে যায়। শুধু নিচের তথ্যগুলো দেখুনঃ 

  • রোগীর সংখ্যাঃ ১৯৮০ সালের ১০.৮ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে হয়েছে ৪২.২ কোটি
  • শতকরা হারঃ ১৯৮০ সালের ৪.৭% থেকে ২০১৪ সালে হয়েছে ৮.৫% (১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে)
  • শুধুমাত্র ২০১৬ সালে ১৬ লাখ মানুষ সরাসরি ডায়বেটিসের কারণে মারা গেছে। সাথে আরো ২২ লাখ মানুষের মৃত্যুর সাথেও পরোক্ষভাবে ডায়বেটিস জড়িত।
  • ২০১৬ সালে সারা পৃথিবীতে মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে ডায়বেটিস ছিল ৭ম।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশে মোট ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭১ লাখ। আগামী ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যার দিক থেকে ৭ম হবে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মান সম্পন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারছি না। ফলে, ডায়বেটিসের কারণে হওয়া অনেক সমস্যাই আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি না। এর একটা বড় কারণ সচেতনতার অভাব। এর কারণে মানুষ দেরিতে চিকিতসকের কাছে যায়। এবং দেরিতে উপযুক্ত চিকিৎসা পায়। অতএব, আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে যারা নিজেরা ডায়বেটিক বা যাদের পরিবারে রোগী আছে, তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সব দিক থেকে চেষ্টা চালানো দরকার।

কিছুদিন আগে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে একজন ডায়বেটিক রোগীর চিকিৎসার খরচ, অন্যদের চেয়ে প্রায় ৬ গুন এবং এই খরচের বেশিরভাগটাই কিন্তু মানুষের নিজের পকেট থেকে ব্যয় করতে হয়। (BMJ Global Health Vol 2, issue 1)

কারা এ ক্ষেত্রে কাজ করছে?

  • বাংলাদেশ সরকার
  • বাংলাদেশ ডায়বেটিক সমিতি- বারডেম হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান (https://www.dab-bd.org/)
  • বেসরকারী প্রতিষ্ঠান- এর মধ্যে আছে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল (মূলত ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি নিয়ে কাজ করে), হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি
  • এছাড়া যে সমস্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসক সাধারণভাবে চিকিৎসা প্রদান করেন তাদের সবাই ডায়বেটিস রোগীদের চিকিৎসা দেন। যদিও চিকিৎসার জন্য জাতীয়ভাবে কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।

আমরা কি করতে পারি?

  • সরকারকে সহায়তা করা
  • নিজে সচেতন হওয়া এবং অন্যান্যদেরও সচেতন করা
  • ডায়বেটিস প্রতিরোধে সচেতনভাবে চেষ্টা করা
  • ডায়বেটিস রোগীদের জন্য সঠিক চিকিৎসা, তথ্য নিশ্চিত করা
  • চিকিৎসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নীতিমালা প্রনয়ন এবং এর উপযুক্ত প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া। 

এই ওয়েবসাইটের এবং এই লেখা লেখির উদ্দেশ্যও কিন্তু তাই। সচেতনতা বৃদ্ধি। আশা করি আমাদের লেখাগুলো পড়বেন। মতামত দিবেন। 

এ বিষয়ে আরো কিছু লেখা-

Leave a Comment