রোজায় ডায়বেটিস রোগীদের করনীয়

রোজায় ডায়বেটিস

রোজা

ডায়াবেটিস

 

দেশে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৩% লোক ডায়বেটিস রোগে ভুগবে( বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা )। এই সমস্ত রোগীর বেশিরভাগ মুসলমান এবং প্রতিবছর রোজা রাখতে চান। রোজায় ডায়বেটিস বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই, রোজার মাসে ডায়বেটিস রোগীর করণীয় সম্পর্কে অল্প কথায় আমাদের এই প্রবন্ধ। আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে মন্তব্য করুন। আমরা হরমোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সংগে পরামর্শ করে আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো।

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর খাবার

  • রোজার পূর্বে যে পরিমাণ ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতেন রোজায় ক্যালরির পরিমাণ ঠিক রেখে খাবার সময় ও ধরণ বদলাতে হবে।
  • ইফতারের সময় অধিক পরিমানে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। ভাজা পোড়া খাবার- পিয়াজু, বেগুনী অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।
  • সেহরীর শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাবার খেতে হবে।
  • ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও টক দই তালিকাভুক্ত করতে পারেন।
  • ডায়াবেটিক রোগীর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেন তারা পানি শূন্যতায় না ভোগেন। ডাবের পানি পান করতে পারেন।
  • যদি মিষ্টি পানীয় পছন্দ করেন, তবে সুইটনার ব্যবহার করতে পারেন।
  • ইফতারের সময় অতি ভোজন এবং শেষ রাতে অল্প আহার পরিহার করতে হবে।

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম

  • ডায়াবেটিক রোগীদের ব্যায়াম জরুরী। তবে দিনের বেলায় ব্যায়াম করা উচিত নয়। রাতের বেলায় ব্যায়াম করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে তারাবীহর নামাজে কিছুটা ব্যায়াম হয়ে যায়।

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ঔষধ

  • যারা দিনে একবার ডায়াবেটিসের ঔষধ খান, তারা ইফতারের শুরুতে (রোজা ভাংগার সময়) খাবেন।
  • অন্যদিকে, যারা দিনে একাধিকবার ডায়াবেটিসের ঔষধ খান, তারা সকালের মাত্রাটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরীর আগে খাবেন।
  • যে সকল রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের রোজার পূর্বেই ইনসুলিনের ধরণ ও মাত্রা ঠিক করে নেয়া উচিত। সাধারণত রোজায় দীর্ঘ মেয়াদী ইনসুলিন ইফতারের সময় বেশী এবং প্রয়োজনে শেষ রাতে অল্প মাত্রায় দেয়া উচিত।
  • রোজার কমপক্ষে তিন মাস পূর্বে ডায়াবেটিক রোগীর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মুখে খাওয়ার ঔষধ এবং ইনসুলিন এর মাত্রা ঠিক করা উচিত।

রোজায় ডায়বেটিস রোগীর রক্তের সুগার টেস্ট করা ও ইনসুলিন নেয়ার বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের অভিমতঃ

গ্লুকোজ পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রক্ত পরীক্ষায় এবং প্রয়োজনে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেয়াতে রোজার কোন ক্ষতি হয় না। Ref: Diab Endocr J 2001; 29(suppl):48

এন্ডোক্রাইনোলজী বিভাগ, মহমনসিংহ মেডিকেল কলেজ-এর রমজান উপলক্ষে প্রকাশিত বুলেটিন অবলম্বনে লিখিত।

এ রোগ সংক্রান্ত আরো আর্টিকেল পড়তে চাইলে দেখুন-

ডায়বেটিস মানে কি?

ডায়বেটিস একটি মহামারীঃ সচেতন হওয়ার সময় এখনই

Leave a Comment