থ্যালাসিমিয়া ৪ঃ প্রতিরোধ

এ পর্যন্ত আমরা থ্যালাসিমিয়া কিভাবে হয়, কাদের হতে পারে, কি লক্ষণ, কি চিকিৎসা এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা হবে এ বিষয়ে আপাতত আমাদের শেষ প্রবন্ধ। এবারের বিষয় কিভাবে এই থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ বাংলাদেশ ২০১৮
২০১৮ সালের থ্যালাসিমিয়া দিবসের পোস্টার

থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধে আমাদের সবার করণীয় আছে। এরই মধ্যে দেশের সরকার এর প্রচারণা চাল্লাচ্ছে।  এর প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি জরুরী হচ্ছে সবার সচেতনতা। সবাই যদি সচেতন হয় তবে আস্তে আস্তে দেশের থ্যালাসিমিয়া রোগীর সংখ্যা কমতে থাকবে।

থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধে আমাদের কিছু কাজ করতে হবেঃ

১। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচারণা চালাতে হবে। পাঠ্যপুস্তকেও এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

২। থ্যালাসিমিয়ার বাহক নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং বিশেষ করে বিবাহের আগে। কারণ, একজন বাহক যদি আরেকজন বাহককে বিয়ে করে তবে তাদের সন্তানের তীব্র থ্যালাসিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি একজন বাহকের সাথে একজন স্বাভাবিক মানুষের বিয়ে হয় তবে সন্তানের সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তাহল সেও একজন বাহক হতে পারে। এবং যেকোন বাহক কোন সমস্যা ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

বাহক নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে। যেমন- CBC, PBF, MCV, MCHC & Hemoglobin electrophoresis

৩। গর্ভাবস্থায় নির্ণয়ঃ যখন কোন বাহক গর্ভবতী হয় তখন সন্তান কি ভালো থাকবে, নাকি বাহক হবে, নাকি তীব্র থ্যালাসিমিয়া এটা আগে থেকেই যাচাই করা সম্ভব। গর্ভের ৮-১১ সপ্তাহের সময় chorionic villus sampling নামক পরীক্ষার মাধ্যে এবং পরবর্তীতে DNA analysis এর মাধ্যমে এটা করা সম্ভব।

থ্যালাসিমিয়ার জটিলতা প্রতিরোধঃ

সঠিকভাবে  চিকিৎসা করলে থ্যালাসিমিয়ার জটিলতা এড়িয়ে চলা সম্ভব। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা চালাতে হবে।

এটাই আমাদের থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধএর উপর শেষ প্রবন্ধ। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে। এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করুন। আগের প্রবন্ধগুলো পড়তে চাইলে নিচের লিংকগুলোতে ক্লিক করুন।

থ্যালাসিমিয়া-একটি জন্মগত/বংশগত রক্তস্বল্পতা

থ্যালাসিমিয়া পার্ট ২ – চিকিৎসা

থ্যালাসিমিয়া পার্ট ৩ঃ খাবার ও প্লীহাকর্তন

Leave a Comment