থ্যালাসিমিয়া পার্ট ৩: খাবার ও প্লীহাকর্তন (splenectomy)

থ্যালাসিমিয়া রোগীর খাবার হচ্ছে মূল চিকিৎসার অংশ। রোগীকে সারাজীবন খাবারের নিয়মগুলো মেনে চলতে হয়। আর প্লীহা কর্তন হচ্ছে শেষ উপায়ের মত। এই প্রবন্ধে খাবার এবং প্লীহা কর্তন সম্পর্কে আলোচনা করেছি। কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করবেন। উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

থ্যালাসিমিয়া রোগীর খাবার

থ্যালাসিমিয়া রোগীর খাবার নিয়ে বাবা-মাএর সবসময় চিন্তা থাকে। কি খাওয়াবো আর কি খাওয়াবো না বা এটা নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষ করে যে সকল মা-বাবার শিশু নতুন করে থ্যালাসিমিয়া রোগী হিসেবে সনাক্ত হয়েছে। কিন্তু থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত শিশু প্রায় সব রকম খাবারই খেতে পারবে। শুধুমাত্র অল্প কিছু খাবার বেছে খেতে হবে।

১। প্রথমেই লাল গোস্ত (গরুর বাঁ খাসির), কলিজা খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এ খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমানে লৌহ থাকে। ফলে, শরীরে লৌহ জমে যাওয়ার পরিমান বৃদ্ধি পায়।

২। এছাড়াও অন্য যে সমস্ত খাবারে লৌহ বেশি থাকে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

৩। ভিটামিন সি আছে এমন খাবার(যেমন- লেবু, আমলকি, কাচামরিচ ইত্যাদি) এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এ খাবারগুলো লৌহ শরীরে বেশি বেশি প্রবেশ করে। তবে, লৌহ পরিশোধনের সময় এ খাবারগুলো খাওয়া যেতে পারে। এতে পরিশোধণ ভালো হয়। তবে তা শুধু লৌহ পরিশোধনের সময়।

৪। যে সমস্ত খাবারের কারণে লৌহ পরিশোষণ কম হয় সেগুলো খাওয়ার পর খাওয়া যেতে পারে। যেমন- চা, কফি ইত্যাদি।

খাবারের বিস্তারিত তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
মনে রাখতে হবে কোন অবস্থাতেই রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা হিসেবে এই শিশুকে কখনই লৌহ বা আয়রন ট্যাবলেট দেয়া যাবে না।

প্লীহাকর্তন(splenectomy)

অপারেশন করে প্লীহা বা spleen কেটে ফেলা থ্যালাসিমিয়া রোগীর শেষ পর্যায়ের চিকিৎসা। প্লীহা হচ্ছে সেই অংগ যেখানে লোহিত রক্ত কনিকাগুলো ভেঙ্গে যায়। প্লীহা কেটে ফেলে দেয়ার ফলে এই ভেঙ্গে যাওয়ার হার কমে যায়। ফলে, রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু সব রোগীর ক্ষেত্রেই এটা করা যায় না।

সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে প্লীহাকর্তন করা হয়

১। যখন এত বেশি পরিমাণ রক্ত প্রয়োজন হয় যে রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হয় না।

২। প্লীহা এত বড় হয়ে যায় যে শিশুর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে যায়।

প্লীহা কর্তনের পূর্বে কিছু শর্ত পূরণ হতে হয়ঃ

১। রোগীর বয়স কমপক্ষে ৫ হতে হয়।

২। নির্দিষ্ট কিছু টীকা দিয়ে নিতে হয়।

অপারেশনের পরও কিছু নিয়ম সারাজীবন মেনে চলতে হয়।

কাজেই, এই বিষয়টা জটিল এবং প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। এজন্য, বিষয়টা ডাক্তারের উপরই ছেড়ে দিতে হবে।

Leave a Comment