করোনা ভাইরাসঃ প্রচলিত ভুল তথ্য

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন কথা ছড়িয়ে পড়ছে। সঠিক তথ্যের সাথে ভুল তথ্যেরও ছড়াছড়ি চলছে। সাধারণ মানুষের জন্য সঠিক তথ্য বেছে নেয়া কঠিন। এ কারণে আমাদের এই আয়োজন। এখানে আমরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুল ধারণা ও তার জবাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে দেয়া বেশির ভাগ তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে নেয়া। 

হতে পারে। রোদে দাঁড়ালে বা তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রীর বেশি হলেও কোভিড-১৯ হতে পারে। বরং রোদে দাঁড়ালে ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়া বা ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর নির্দিষ্ট সময় পড়ে শরীর একে মোকাবেলার শক্তি অর্জন করে এবং শরীর থেকে ভাইরাসকে দূর করে ফেলে। ফলে, সম্পুর্ণ সুস্থতা প্রাপ্ত হয়। তবে, কিছু লোক মৃত্যু বরণও করে। কাজেই সবাইকে সাবধাণ থাকতে হবে। 

ভুল। সাধারণত কোভিড-১৯ এর লক্ষণ মৃদু হয়। আর কিছু লোকের নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ দেখা যায়। এদের শুকনো কাশি, গলা ব্যথা এবং পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে এ লক্ষণগুলো অন্য নিউমোনিয়া বা গলার সংক্রমণ থেকেও হতে পারে। কোভিড-১৯ আছে কি নাই শুধু পরীক্ষা করেই নিশ্চিত করা সম্ভব। 

ভুল। মদ খেয়ে এ রোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব না। বরং মদ এবং অন্যান্য মাদক সেবনের মধ্যে শরীরের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি।

আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র হলেও করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। ফলে, কোভিড-১৯ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পৃথিবীর উষ্ণ ও আর্দ্র এলাকাগুলোতেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে নিশ্চিন্ত না থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা জরুরী। ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, কাশির সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়া বা কনুইএর মধ্যে কাশি দেয়া ইত্যাদি।

না। মানব শরীরের তাপমাত্রা ৩৬-৩৭.৫ ডিগ্রী। এই তাপমাত্রা করোনা ভাইরাসের জন্য উপযোগী এবং বাহিরের তাপমাত্রা যাই হোক না কেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে না। বাচতে চাইলে নির্দেশনা মেনে চলুন। 

না। বরং সংক্রমণ কমাতে হলে ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে, একে অপর থেকে কমপক্ষে ৩ ফিট দুরুত্ব বজায় রাখতে হবে, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া ইত্যাদি সরকারী নির্দেশনা মেনে চলা দরকার।

না। বরং ছোঁয়ার মাধ্যমে, হাঁচিকাশির মাধ্যমে ছড়ায়।

না। এর মাধ্যমে যে গরম বাতাস বের হয় সেটা দিয়ে করোনা ভাইরাসকে মারা সম্ভব না।

না। সাধারণ আল্ট্রাভায়োলেট লাইট দিয়ে এই ভাইরাসকে ধ্বংস করা সম্ভব না। যে বিশেষ লাইটের মাধ্যমে এই ভাইরাসকে ধ্বংস করা সম্ভব কিন্তু তা সরাসরি মানব শরীরের উপর প্রয়োগ করা ক্ষতিকর। 

না। শরীরে প্রবেশের পর উপরিভাগে কোন ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমেই এই ভাইরাসকে ধ্বংস করা যায় না। বরং ক্লোরিন বা এলকোহল প্রয়োগ শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে।